[ ডাঃ এ. আলী ]
শাহিদা খাতুন, বয়স-৪৫ বৎসর, বিবাহিতা, পেশা-ডাক্তার। ঠিকানা-বারান্দিপাড়া, যশোর।
কেস রেকর্ড ও পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে পেলাম- ২ বৎসর হলো জরায়ুর ফাইব্রয়েড টিউমারে কষ্ট পাচ্ছে।
- টিউমারটি সুপারীর মত এবং শক্ত প্রকৃতির, কোন ব্যথা নেই, তবে ভারী কোন কাজ-কর্ম করলে তলপেটের ডান দিকে চাপবোধবৎ ব্যথা করে। গরম সেঁকে উপশম। জরায়ুর মুখ শক্ত।
বিয়ের ৩/৪ বৎসর পর ডি, এণ্ড, সি’র মাধ্যমে পর পর ২টি সন্তান নষ্ট করে, তাছাড়া আরো ২টি সন্তান নষ্ট হয়েছিল।
রোগিণী টিউমারে আক্রান্ত হওয়ার পর ঘন ঘন এবং ক্ষীণ ধারায় প্রস্রাব হতো তাই স্থানীয় যশোরের আদ-দ্বীন ক্লিনিকে ভর্তি হয় এবং আল্ট্রাসনো করে। এরপর ওখানকার গাইনী স্পেশালিষ্টের অধীনে পুনরায় আল্ট্রাসনো করে। প্রত্যেকেই বলে রোগিণীর জরায়ুতে ফাইব্রয়েড টিউমার হয়েছে। তাই তাদের বক্তব্য- অপারেশন ছাড়া রোগিণী টিউমারের হাত থেকে নিষ্কৃতি লাভ করবে না। তাই রোগিণী আমার ঠিকানা পেয়ে আমার নিকট চলে আসে।
আমি অনুসন্ধান করে আরো পেলাম-
- মাসিক নিয়মিত হয়। ৬ দিন থাকে। প্রথম ২ দিন খুব বেশী, পরের ৪ দিন কম। স্রাব ক্ষতকর, দুর্গন্ধযুক্ত, চাকা চাকা রক্ত পড়ে। দাগ সাবান ছাড়া ওঠে না।
- প্রস্রাব দৈনিক ৭/৮ বার হয়। পরিষ্কারভাবে হয় না। ক্ষীণ ধারায় হয়।
- পায়খানা দৈনিক ১/২ বার হয়, নরম এবং পরিষ্কারভাবে হয়। ছোট কৃমি আছে।
- রোগিণী অতীতে পক্স ও হাঁপানীতে কষ্ট পেয়েছিল।
বংশে আব্বার প্রেসার ও পাইলস আছে। মায়ের বাত আছে। ৬ বোন ১ ভাই। ছোট বেলায় ২ ভাই-বোন মারা গেছে। ২ ছেলে ২ মেয়ে জীবিত। ছোটকালে ১ সন্তান মারা গেছে।
দৈনিক গোসল করে, তবে শীতকালে গরম পানিতে গোসল করে। শীতকাতর, হাতের তালু গরম, মাঝারী বালিশে চিৎ হয়ে ঘুমায়। জ্বরঠুসা হয়েছিল ও আঁচিল ছিল।
গরম খাবার, মিষ্টি, ঝাল, গোস, মাছ, ডিম, দুধ ও রুটি পছন্দ।
লবণ ও ভাজা অপছন্দ। ক্ষুধা-পিপাসা বেশী।
চঞ্চল প্রকৃতির মন। রাগ-জেদ বেশী, সহজে কমে না। কাজ-কর্ম দ্রুততার সাথে করে। স্মরণশক্তি ভাল। গান-বাজনা ও লোকজন ভালবাসে। সঞ্চয়ী মন। মায়া-মমতা আছে। অন্ধকার, চোর-ডাকাত ও ভূতের ভয় আছে। ঘুম ভাল হয়।
ডি এণ্ড সি করার পরে জরায়ুতে ফাইব্রয়েড টিউমার অর্থাৎ আঘাতপ্রাপ্ত জরায়ুতে টিউমার দেখা দিয়েছে,
- জরায়ুর মুখ শক্ত, নড়াচড়ায় ব্যথা বৃদ্ধি, গরম সেঁকে উপশম, সবিরাম গতিতে ঝাঁকি দিয়ে ক্ষীণ ধারায় প্রস্রাব হয় ও শীতার্ত-এর প্রতি লক্ষ্য করে আমি ১-৪-৯৪ তারিখে কোনিয়াম ১ এম. দু’দাগ ঔষধ পরিবতর্নশীল প্রথায় সেবন করতে বলে এক মাস পর সংবাদ দিতে বলি।
- ২৬-৫-৯৪ তারিখে রোগিণী এসে বললো- টিউমারের ও ব্যথার তেমন কোন পরিবর্তন হয়নি, তাই ঐ তারিখে কোনিয়াম ১ এম. এর ২টি বড়ি এক ড্রাম পানির মধ্যে ১০ বার ঝাঁকি দিয়ে সকালে সবটুকু সেবন করার কথা বলে একমাস পর সংবাদ দিতে বলি।
- ২৬-৬-৯৪ তারিখে সংবাদ পাই রোগিণী বেশ ভাল ছিল।
- ২/৩ দিন হলো টিউমারে সামান্য ব্যথা দেখা দিয়েছে, তাই ঐ তারিখে কোনিয়াম ১০ এম. দু’দাগ ঔষধ উপরোল্লিখিত প্রথায় সেবন করতে বলে এক মাস পর সংবাদ দিতে বলি।
- ২৬-৮-৯৪ তারিখে সংবাদ পাই রোগিণী এ যাবৎ সুস্থ ছিল, তাই আসতে দেরী করেছে। তাছাড়া বর্তমানে রোগিণীর মধ্যে কিছু সালফারজাত লক্ষণ দেখা দেয়ার কারণে আমি ২৬-৮-৯৪ তারিখে সালফার ১ এম. এবং ১৫-১২-৯৪ তারিখে ১০ এম. প্রয়োগ করার পর সালফারজাত লক্ষণসমূহ দূরীভূত না হওয়ায় ২৩-৩-৯৫ তারিখে সোরিনাম ২০০ শক্তি দু’দাগ ঔষধ উপরোল্লিখিত প্রথায় সেবন করতে বলে কয়েকদিন পর সংবাদ দিতে বলি।
- ২৫-৪-৯৫ তারিখে রোগিণী এসে বললো-ডাক্তার সাহেব আমাকে যে কষ্টের জন্য ঔষধ দিয়েছিলেন বর্তমানে সে কষ্ট নেই। তবে ক’দিন হলো আবার পূর্বের কষ্ট দেখা দিয়েছে। ঐ তারিখে কোনিয়াম ১ এম. শক্তির দু’দাগ ঔষধ পরিবর্তনশীল প্রথায় সেবন করতে বলে আবার এক মাস পর সংবাদ দিতে বলি।
- ৩১-৫-৯৫ তারিখে সংবাদ পাই- রোগিণীর আক্রান্ত স্থানে কোন ব্যথা নেই এবং টিউমারটি এখন বোঝা যায় না। তবুও ঐ তারিখে কোনিয়াম ১ এম ১ দাগ ঔষধ অল্প পানির সাথে গুলে সবটুকু একদিন সকালে খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে এক মাস পর সংবাদ দিতে বলি।
- এরপর রোগিণী ১২-৭-৯৫ তারিখে পুনরায় আল্ট্রাসনো রিপোর্ট নিয়ে আমার কাছে আসে। আমি রিপোর্ট দেখে বুঝলাম-ফাইব্রয়েড টিউমারটি সম্পূর্ণ দূরীভূত হয়েছে।
[রোগী পর্যবেক্ষণ
ডাঃ এ. আলী]

