ছ’বার অপারেশনের পরেও পেরেশানি যায়নি
মিসেস রু. বেগম, ৪৫ বছরের একজন শিক্ষিকা। দোহারা বলিষ্ট স্বাস্থ্যে ও চেহারার অধিকারিণী। উত্তরবঙ্গে বাড়ী। ১৯৯৩ সালের ২৬শে ফেব্রুয়ারী এলো আমার চেম্বারে।
অনেকক্ষণ ধরে রোগের ইতিকাহিনী শুনালো। কাহিনীটা নিম্নরূপ:
১। ডান স্তনে টিউমার। ১৯৯২ সালের আগষ্টে ঐ স্তনে টিউমার অপারেশন। বর্তমান টিউমার ৪/৫ মাস। কিছুটা ব্যথাও আছে।
অপারেশন আরো হয়েছে: ১৯৯১-এর জুলাইতে গলব্লাডারে স্টোনের জন্য, এবং অ্যাপেন্ডিক্স অপারেশন। ১৯৯২ সালের মার্চে টিউমারের জন্যে ইউটেরাস অপারেশন, ইউটেরাস ফেলে দেওয়া হয়। ১৬ বছর বয়েসে মাথায় আঁচিলের জন্য অপারেশন। অর্থাৎ এ পর্যন্ত মোট পাঁচবার অপারেশন।
২। পাইলস। বিশ বছর। বর্তমানে কম মনে হলেও মাঝ মাঝে রক্ত যায়। ব্যথা-ডান কোমরের পেইন থেকে সামনে আসে এবং আস্তে আস্তে ওপরে ওঠে।
৩। এখন হঠাৎ করে মাথা গরম হয়ে যায়। গায়ে কাপড় রাখা যায় না।
৪। জিহ্বার দুপাশে ঘা। প্রথমে ডান পাশে কি বাঁ পাশে, মনে নেই। তবে ঘা এখন ডানপাশে বেশী।
৫। পেটে সব সময় গ্যাস হয়। বিকালের দিকে বেশী বলে মনে হয়।
৬। শরীরের সব জয়েন্টে ব্যথা। এবং অ্যাপেন্ডিক্স অপারেশনের জায়গায় টান লাগে, ব্যথা করে, মাঝে মাঝে চুলকায়।
পূর্বরোগের ইতিহাসঃ চুলকানি, পাঁচড়া, একজিমা, ম্যালেরিয়া, হাম, টাইফয়েড-ছোটবেলায়। যৌবনে প্রস্রাবের পীড়া। এবং সর্ব চিকিৎসা অ্যালোপ্যাথিক।
পারিবারিক রোগঃ পিতার যক্ষ্মা, কিডনীতে পাথর, মায়ের অ্যাজমা, সাইনোসাইটিস।স্বামীর ডায়াবিটিস। ছেলেমেয়ের হাঁপানি, সাইনোসাইটিস, ব্রঙ্কাইটিস। চাচার পাইলস, চাচাতো বোন পাগল, নানী গ্যাস্ট্রাইটিস, মামা স্কিনডিজিজ, মামাতো বোন টিউমার, খালা ডায়াবিটিস, খালাতো বোনের ইউটেরাস টিউমার অপারেশন।
মানসিক লক্ষণঃ শান্তশিষ্ট, খোলামেলা মন, তবে রাগও আছে, হঠাৎ রাগ ওঠে, হঠাৎ পড়ে, রাগলে কথা বেধে যায়। গল্পবাজ, কথা বেশী বলে। সহানুভূতিশীলা, কিছুটা একগুঁয়েও বটে, দান করে অন্ধভাবে। কারো কোনো অপরাধ ক্ষমা করতে পারে না। প্রফুল্ল চঞ্চল, কর্মঠ, মনের মধ্যে অস্থিরতা, কাজ আস্তে করে, নির্জনতাপ্রিয়, পরিচ্ছন্ন, গোছালো। বেহিসেবী। তবে খরচের বেলায় খুব হুশিয়ার বলে মনে হয়।
মৃত্যুভয় আছে। ১৬/১৭ বছর বয়েসে ভয় পেয়ে জ্বর। মরে যাবার মতো হয়েছিলো। ওষুধ ও ঝাড়ফুক।
ভয়: ডাকাতের, গরু-কুকুরের, বিদ্যুৎ চমকানির, শব্দের, ভীড়ের, রোগের, কাজের শুরুতে, পরীক্ষার, উপরস্থ কেউ ডাকলে, অন্ধকারে ভয়, একা থাকতে ভয় লাগে।
ঝগড়াঝাটি করার বা গালিগালাজ করার ইচ্ছা বা অভ্যাস আছে। চলার সময় মনে হয় পেছনে কে আসছে। রাতে শুয়ে থাকলে মনে হয় পাশে কে শুয়ে আছে। শরীরটাকে মনে হয় কাঠের মতো, ভেঙে যেতে পারে। মনে হয় নিজের ইচ্ছেয় চলে না। সান্ত্বনা বা আদর যত্নে কষ্ট বাড়ে। কেউ রাগ থামাতে এলে আরো রাগ হয়। সবার ওপরে মাতব্বরি করতে চায়। মানসিক আঘাত আছে। দীর্ঘশ্বাস পড়ে, গলায় পানি বাধে, গালে কামড় লাগে। গান ভালো লাগে, কান্না আসে।
স্মরণশক্তি কম, কিছু মনে থাকে না, আত্মীয় স্বজনের বন্ধুবান্ধবের নাম ভুলে যায়, কথার প্রসঙ্গ ভুলে যায়।
রোগের চিকিৎসা সম্পর্কে আশাবাদী।
সার্বদৈহিক ও খাদ্যাখাদ্যঃ
ক্ষুধা: দুপুরের দিকে কিছুটা ক্ষুধা লাগে। তখন না খেলে দুর্বলতা বোধ। আবার খেতে গেলে দু একবার গালে দিলেই পেট ভরে যায়। রুচি আছে।
পিপাসা স্বাভাবিক। পানি বেশীই খায়। রাতে ঘুম ভেঙে উঠে বা স্বপ্ন দেখে ঘুম ভাঙলে পানি খায়।
খাদ্য: মাছ, মাংস, দুধ, ডিম মিষ্টিজাতীয় খাদ্য, টক, তিতে, আলু, কাঁচা পেঁয়াজ, পুইশাক, হেলাঞ্চি, কলমি খায়; তবে ডিম, দুধ ও মিষ্টিজাতীয় খাদ্যে বেশী আগ্রহ।
চা কফিও খায়। লবন খায় কম।
অসহ্য খাদ্য: টক, বাঁধা কপি, ফুল কপি, শিম, শাক, পুঁই, কলমি। অল্প গরম খাদ্য পছন্দ। দুধ ও চাও অল্প গরম পছন্দ।
ফলের মধ্যে পছন্দ: আম, কাঠাল, জাম, কমলা, আঙুর।
পায়খানা: দিনে একবার, ঘুম ভাঙার কিছুক্ষণ পরে, মল না নরম না শক্ত মধ্যম প্রকৃতির, রঙ হলদে, দুর্গন্ধ।
প্রস্রাব: অনিয়মিত, বারে কম, পরিমাণে কখনো বেশী কখনো কম। রঙ প্রায়ই হলদে। ঝাঁঝালো গন্ধ।
শয়ন: চিৎ, উভয় কাৎ, হাত পা ছড়িয়ে। বালিশ নীচু।
ঘুম: কম, শেষ রাতে। বিলম্বে ওঠে। ঘুম ভাঙার পর আবার ঘুম। সমস্ত দিন ঘুমঘুম ভাব কিন্তু শুইলে ঘুম হয় না। নাক ডাকে।
স্বপ্ন: পড়ে যাওয়া, পায়খানা করা, সাঁতার দেওয়া, মৃতদের জীবন্ত দেখা, ভ্রমণ, ভয়ের স্বপ্ন।
ঘামঃ হয় না, পূর্বে হতো। গন্ধহীন। ব্লাউজে হলদে দাগ।
রোদ সহ্য হয় না।
জ্বালাঃ হাতের, মাথার ও পায়ের তালুতে।
ঘরের জানালা বন্ধ করে শোয়া যায় না। শীতকালে লেপ-কাঁথা মুড়ি দিয়েও শোয়া যায় না। শীতকালে রাতে বাইরে বেরুলে মাথা ঢাকতে হয়।
রুগী নিজেকে গরমকাতর বললেও প্রকৃত পক্ষে শীতকাতর কি গরম কাতর বুঝা কঠিন। কারণ গোছল করতে ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও রোজ গোছল করে না। তবে গোছল করলে ভালো লাগে এবং বারোমাস ঠাণ্ডা পানিতে গোছল করে। তাতে করে গরমকাতরই বলা যেতে পারে।
ঠাণ্ডা লাগা প্রবণতা আছে। তবে হাঁচি সর্দি হয় না, ঠান্ডা লাগে শরীর অভ্যন্তরে।
আঘাত: হাতের পায়ের আঙুলের মাথায়, মাথার তালুতে মেরুদণ্ডে ও অন্যান্য স্থানে আঘাতের ইতিহাস।
শরীর দুর্বল, সিড়ি ভাঙতে কষ্ট, একস্থানে বেশীক্ষণ দাঁড়াতে পারে না। বুক ধড়ফড় করে, মাথাঘোরে বসে থাকলে। জিহ্বা পরিষ্কার থলথলে, দাঁতের দাগ আছে।
টিকা, ইনজেকশন, রেডিয়াম ইউটেরাসে, রেডিওথেরাপি, থেরাপি, অপারেশান।
চিকিৎসা:
রুগিণীর চিকিৎসার পথে বেশ কিছু অন্তরায় মাথা তুলে দাঁড়িয়ে আছে। কিন্তু সবচেয়ে বড়ো কথা, অপারেশন ও রেডিও থেরাপি দ্বারা রুগিণীকে বিধ্বস্ত করা হয়েছে। এবং এখন রুগিণী incurableness-এর আওতায়। আমি চিকিৎসা করতে অস্বীকার করায় রুগিণী বললো: এতোকিছুর পরে আমি আর ভালো হবো না জানি, তবু আমি আপনাকে দেখাতে চাই কারণ আমার ইণ্ডাস্ট্রিয়ালিস্ট চাচা আপনার চিকিৎসায় ভালো হয়েছে। তিনি পাঠিয়েছেন আমাকে আরোগ্য হওয়া না হওয়ায় আপনার কোনো দায় দায়িত্ব নেই। আপনি ওষুধ দিন।
এরূপ নাছাড় হওয়ায় ওষুধ দিতে বাধ্য হলাম। যাই হোক, আরোগ্যের পথে প্রতিবন্ধকতা ছিলো থেরাপি, অপারেশন ও আঘাত। আপাতদৃষ্টে এই তিনটে। কিন্তু আঘাত অনেক আগের ও প্রথম ঘটনা হলেও রুগিণীর একটা অপারেশনের স্থানে কষ্ট দেখা দিয়েছে।
অতএবঃ
২৬.২.৯৩: স্ট্যাফি ২/০-৮/০ দুমাসের জন্য।
১৪.৪.৯৩: সবদিক থেকে কমের দিকে। ডানপেট ফাঁপে। জিহ্বায় ঘা কম। তবে জ্বালাপোড়া আছে। ব্রেস্ট টিউমার ছোট হয়েছে। পাইলসের রীডিং নেই। ভেতরের ক্ষতও কম। মাঝ মাঝে ডান হিপ থেকে একটা ব্যথা ডান তলপেটে আসে, সেখান থেকে পেট বুক হয়ে ডান মাথায় যায়। বহুপূর্বে হতো। মাঝে বহু দিন ছিলো না। স্ট্যাফি ৯/০, ১০/০, ১১/০, ১২/০
১৬.৫.৯৩: জিহ্বার ভেতরের গোটা কম। টনসিলের কষ্ট কম। ব্রেষ্টটিউমার কম। পাইলস কম। হিপের ব্যথা সামান্য বৃদ্ধি। প্রস্রাবে যন্ত্রণা। সব কষ্ট ডান দিকে। লাইকো ২/০ – ৯/০ দুমাসের জন্য।
১১.৭.৯৩: সমস্ত ডান পাশের কষ্টগুলো কমের দিকে হলেও হঠাৎ করে মাথা শরীর গরম হয়ে যায়। গায়ে কাপড় রাখা যায় না। খোলা বাতাসে ঘুরলে ভালো লাগে। মাথা ঘোরে, মাথায় ব্যথা। রেডিয়াম ২/০৭/০
২.৯.৯৩: জ্বালা পোড়া নেই। পুনরায় অপারেশনের স্থানে ব্যথা চুলকানি। ট্রাফি ১৩/০-১৯/০
৩১.৯.৯৩: অপারেশনের জায়গায় কোনো অসুবিধে নেই। পেটে গ্যাস হয়। হজমেও অসুবিধে। শাঁক জাতীয় কোনো কিছুই খাওয়া যায় না। খেলে অসুবিধে। ঘুম থেকে উঠেই পায়খানা। দুধ একেবারেই অচল। পায়ের একটা নখের কোনায় ঘা। ন্যাট সালফ ২/০৯/০
১.১১.৯৩: পেটে অসুবিধে অনেক কম। শাক খেলে এখনো কিছুটা অসুবিধে। নখের ঘা নেই। ন্যাট সালফ ১০/০, ১৭/০
২.১.৯৪: পেটে খুব গ্যাস হয় বিকালে বেশী। দুধ খেলে এখনো অসুবিধে হয়। তবে শাকে কোনো অসুবিধে হয় না। জিহ্বার ঘা বেড়েছে, ডান পাশে বেশী। লাইকো ৮/০ – ১৯/০
৩.৪.৯৪: গ্যাস কম, জিহ্বার ক্ষতও কম। স্তনের টিউমারটা একই রকম আছে। খুব শক্ত হয়েছে। টিপলে ব্যথা করে। এই পর্যায়ে ঘামের কথা জিজ্ঞাসা করে জানা গেলো নিদ্রায় ঘাম বেশী হয়। এবং প্রসঙ্গক্রমে জানা গেলো বিগত বছর দু’এক যাবৎ রুগিণী স্বামীর সাথে থাকে না। এবং এই বিচ্ছেদটাকে স্থায়ী করার জন্যে সে আগামী সপ্তাহে আমেরিকা প্রবাসী ছেলের কাছে যাবে। বেশী করে ওষুধ দিতে হবে। কোনিয়াম ২/০- ১৩/০ তিন মাসের জন্য।
৮.৭.৯৪: তিন মাস পরে আমেরিকার ওহিও থেকে রুগিণীর চিঠি: কিছুই মনে থাকে না, কিছু বুঝতে পারিনে, ক্ষিধে আছে খেতে পারিনে, কোষ্ঠবদ্ধ, গুটলে গুটলে কালো পায়খানা, দুর্গন্ধ, পায়খানায় বসে চাপ দিলে তলপেট মলদ্বার যেন ফেটে যায় এতো ব্যথা। পাইলসের ব্যথা। দারুণ গরম, দারুণ ঘাম। খুব ভয় লাগে, একা থাকতে পারিনে, ঘুমের মধ্যে নাক ডাকে। স্তনের টিউমার ছোটো হচ্ছে। ব্যথা নেই।
রুগিণীর বহু আগের ভয় পাবার কথা মনে হলো। মনে হলো আরো একটা লক্ষণের কথা, ঘাম গরম, না ঠাণ্ডা? কিন্তু জানার উপায় নেই। অন্যান্য লক্ষণের পরে নির্ভর করে ওপিয়াম দিলাম এক মাসের জন্য।
ওপিয়াম ২/০ – ৫/০ এবং ঘামের কথাও লিখে জানালাম।
২৫.৮.৯৪: মনের অবস্থাটা ভালোর দিকে, ভয় আছে, তবে কম, এখন আর অতো ভ্যাবলার মতো নেই, তাড়াতাড়ি সব কথা কাজ বুঝতে পারি। পায়খানা এখনও কঠিন তবে আগের চেয়ে কম। পাইলসের ব্যথা প্রায় নেই। ব্রেস্টের টিউমার মনে হয় একটু যেন বড়ো তবে ব্যথা নেই। হ্যাঁ, ঘাম গরম। তবে ঘাম এখন কম হচ্ছে। জিহ্বার ক্ষতও কম।
ওপিয়াম ৬/০- ১৩/০ দুই মাসের জন্য।
২৫.১১.৯৪: এখন আর ভয় লাগে না। পায়খানার সে ব্যাথা নেই। ঘামও স্বাভাবিক। ভালোই ঘুম হয়। ব্রেস্টের টিউমার একই রকম। জিহ্বায় ক্ষত আছে। পেটে গ্যাস হয় বিকালে। ডান নাক বন্ধ।
লাইকো ২/০৩/০ তিন মাসের।
২৭.৩.৯৫: জিহ্বার ক্ষত নেই। ব্রেস্ট টিউমার নেই। পাইলসেরও কোনো কষ্ট নেই। তবে পায়খানায় অসুবিধে হচ্ছে। হতে চায় না। একটু হয়ে আর হয় না। কখনো বা খালি খালি পায়খানা থেকে ফিরে আসতে হয়। প্রস্রাবে কষ্ট। মাঝে মাঝে যন্ত্রণা হয়। তলপেট টনটন করে। পরিষ্কার হয় না, মনে হয় অনেক প্রস্রাব থেকে গেলো।
থুজা ২/০- ১৫/০ চার মাসের।
১৫.৮.৯৫: একটা কথা বলার দরকার। ওষুধ এক সঙ্গে দেড় মাস দুমাসের বেশী পাঠাইনে। লেখার সময় একেকটা ওষুধ যতোদিন চলেছে, তারই সামগ্রিক হিসেব লেখা। যাইহোক এবারের রিপোর্ট কোনো অসুবিধে নেই। সম্ভবত আর ওষুধ লাগবে না। তবু চিঠি লিখলাম আপনাকে ধন্যবাদ জানাবার জন্যে। দোয়া করবেন।
রুগিণী মনে করছেন তিনি রোগমুক্ত হয়েছেন। কিন্তু সত্যি কি তাই? প্রথম দিনই বলেছিলাম, ৬/৭ বছর ওষুধ খেতে হবে। রুগিণী তাতেই রাজী ছিলেন এখন তিন না পেরোতেই এবং খুব সম্ভবত চিকিৎসা সম্পূর্ণ না হতেই তিনি ধরে নিয়েছেন, তিনি এখন রোগমুক্ত। কিই বা আর বলার থাকতে পারে! রোগ নেই তবু ওষুধ খেতে বলার অর্থ কে না বোঝে যে, ডাক্তারের অর্থের লালসা এখনো মেটেনি।
যাই হোক, ১৯৯৭ সনের ডিসেম্বরে রুগিণীর ছেলে মার্কিন মুলুক থেকে ছুটে এসেছে। মায়ের ব্রেস্ট টিউমার খুব সিরিয়াস। দুমাস আগে নাকি বা ব্রেস্টে টিউমার দেখা দিয়েছিলো। অপারেশন। দিন পনর পরে ডান ব্রেস্টে টিউমার খুব ব্যথা। রুগিণী আর অপারেশনে যেতে চান না। তিনি আমার ওষুধ খাবেন।
বলে দিলাম-আমার ওষুধে আর কাজ হবে না। কাজেই আমি আর ওষুধ দেবো না।
[ অভিজ্ঞতার পঞ্চাশ বছর
ডাঃ জহরুল ইসলাম]

